1. admin@dainikamaderphulpur.com : admin :
  2. chiran777@gmail.com : selim rana : selim rana
  3. info.popularhostbd@gmail.com : phulpur :
শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফুলপুরে প্রণোদনার বীজ–সার বিতরণে লটারি অনুষ্ঠিত ফুলপুরের গর্ব আব্দুল্লাহ আল মাসুম কুরআনের আলোয় আলোকিত হলো ফুলপুর, উজ্জ্বল বাংলাদেশের মুখ মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক নির্বাচিত এ.কে.এম. আজাদকে ফুলের শুভেচ্ছা বকশীগঞ্জে সাংবাদিক নাদিম হত্যাকারীদের আড়াল করার অপচেষ্টা ফুলপুরে ইসলামি ছাত্র শিবিরের উদ্যোগে রাস্তা মেরামত  ফুলপুরে রহিমগঞ্জ ইউনিয়নে খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী রিক্সা প্রতীকের জনসভা অনুষ্ঠিত রাস্তা সংস্কারের দাবিতে ঈশ্বরগঞ্জে মানববন্ধন ৫ বছরেও শেষ হয়নি নির্মাণ কাজ, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী ফুলপুরে বালিয়া বাজারে তারেক রহমানের ৩১ দফার দাবিতে লিফলেট বিতরণ ও ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা

Reporter Name

মোঃ আব্দুল মান্নান :আমরা নির্মম নির্যাতনের শিকার। বাবা হত্যার কোন বিচার পাচ্ছি না। আসামিদের ভয়ে সাক্ষীরা স্বাক্ষ্য দেয় না। বসতভিটা বেদখল দেওয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। আমাদের পাশে কেউ নেই। কেউ আমাদের সাপোর্ট করছে না। তাহলে বাবা হত্যা মামলা আমরা কিভাবে চালাবো? বলছিলেন জামালপুর প্রেসক্লাবের নির্যাতিত সাংবাদিক মোস্তফা মঞ্জুর মামলার সাক্ষী হওয়ায় নির্যাতনের শিকার হয়ে পঙ্গুত্ববরণ ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহত জামালপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সহসভাপতি, পল্লী কন্ঠ ও আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক শেলু আকন্দের কন্যা সিনথিয়া আকন্দ। শনিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ — এর চেয়ারম্যান খায়রুল আলম রফিক ও তার টিম আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়ে নিহত সাংবাদিক শেলু আকন্দের পরিবারের খোঁজ খবর নিতে তার বাসায় গেলে সাংবাদিকতায় অনার্স করা সিনথিয়া আকন্দ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর আমার বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়। তার দুই পা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পঙ্গু অবস্থায় ঢাকায় দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থেকে ২০২৪ সনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মামলা কোর্টে বিচারাধীন। মামলার চার্জশিট শুনানি হয়ে গেছে কিন্তু আসামিদের ভয়ে সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিচ্ছে না। সাক্ষ্য না দেওয়ায় ঝুলে আছে মামলা। ‘বাবার মামলা চালাতে পারছি না’ এ কষ্ট দূর হওয়ার আগেই বাবা হারানোর শোক কাটতে না কাটতেই আসামিদের যোগসাজশে আওয়ামী লীগের দোসরদের দ্বারা আমার বাবার বসতভিটার জমি বেদখলের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এমনকি তারা আমাদেরকেও মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিচ্ছে। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের নানানভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
জামালপুর সদরের ২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসানুজ্জামান খান রুনু ও তার ছেলে রাকিব খান আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক এবং সাথে আরও কয়েকজন আসামি মিলে আমার বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে পঙ্গু করেছিল। কিন্তু পুলিশ তাদের ধরছে না বলে সাংবাদিক কন্যা সিনথিয়ার অভিযোগ। সিনথিয়া আকন্দ বলেন, আমি ওসির কাছে গেছি, এসপির কাছে গেছি। এসপি সাহেব আসামিদের ধরার জন্য অর্ডার দিলেও ধরছে না আসামি। সাক্ষীরা সাক্ষী দিচ্ছেন না। এখন আমাদের পাশে কেউ নেই। যারা সাক্ষী তারা সাক্ষী দেয় না। মামলা তাহলে কেমনে চালাবো? বাবা হত্যার কোন বিচার পাচ্ছি না। কেউ আমাদের সাপোর্ট করতেছে না। পাল্টা মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা নির্মম নির্যাতনের শিকার। বাবাকে মেরে ফেলার পর এরকম অসহায় অবস্থায় কোন আত্মীয় স্বজনও আমাদের খোঁজ খবর নিতে আসেনি। সন্ত্রাসীরা এতটাই দাপটি যে, সাংবাদিকরা আমাদের নিয়ে রিপোর্ট করতে ভয় পায়। এমনও হয়েছে যে, রিপোর্ট করেছে কিন্তু আমি প্রশাসনের কাছে দিব বা ফেইসবুকে শেয়ার করবো কিন্তু তারা বলে যে, এটা হাতেই রেখে দাও। শেয়ার করার দরকার নেই। সমস্যা হতে পারে। আমার বাবা সাংবাদিক ছিলেন। বাবা নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয়েছেন। এমতাবস্থায় সাংবাদিকরা যদি বাবাকে নিয়ে রিপোর্ট করতে ভয় পায় তাহলে আমরা কার কাছে যাব, বলুন? এ প্রশ্নের উত্তরে সাংবাদিক খায়রুল আলম রফিক বলেন, তোমার বাবাকে আমি পঙ্গু হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলাম। যাইনি? পরে সিনথিয়া বলেন, আপনি গেছেন কিন্তু যাদের সবসময় আমাদের কাছে থাকা দরকার তারা তো কেউ নেই। বাবা হত্যার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সিনথিয়া। তিনি বলেন, আমার মা’টা বিধবা হয়ে গেলো। ছোট একটা ভাই। আমি বড় সন্তান। মা’কে আশ্বস্ত করতে পারি না যে, বাবা হত্যার বিচার হবে। মাকে বলতে পারি না যে, মা! তুমি আমার বাবা হত্যার বিচার দেখে যেতে পারবা। কেউ সাক্ষী দিচ্ছে না। এখন এমন একটা অবস্থা যে, আমাদেরকে যদি কেউ মেরেও যায়, তবু কেউ বলবে না যে, আমাদের মারছে। কেউ বলবে না। সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ — এর চেয়ারম্যান খায়রুল আলম রফিক জানতে চান যে, পুলিশ প্রশাসন কি হেল্প করে না? সিনথিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে তো আসামিদের একটা দাপট ছিল, প্রভাব ছিল। তখন তো তাদের কিছু করেনি। এখন তো তা নেই। কিন্তু এখনো তো তারা ধরা ছুঁয়ার বাইরে। কিভাবে তারা আমাদের বসতভিটার জমি বেদখল দিতেছে? কিভাবে কোন জোরে দিতেছে এখন? এখনো কিভাবে প্রকাশ্যে ঘুরতেছে? এসময় তিনি প্রশাসন ও সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আপনাদের কাছে আমি এটাই বলতে চাই যে, আমি যেন আমার বাবার সুষ্ঠু বিচার পাই। মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদেরকে হয়রানি করা হচ্ছে। আমাদের জীবন বিপন্নের চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এসব জুলুম থেকে মুক্তি চাই। আমরা কি অন্যায় করেছি? সাংবাদিকের সন্তান কি বিচার পাবে না? আমি সাংবাদিকের সন্তান বলে কি বিচার পাব না?
সিনথিয়ার পর তার মায়েরও কিছু কথা শোনা হয়। একই দাবি জানান সিনথিয়ার মা। তারা সাংবাদিক শেলু আকন্দ হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
পরে এ বিষয়ে জানতে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ — এর চেয়ারম্যান খায়রুল আলম রফিক জামালপুর সদর থানায় গমন করেন। কথা বলেন ওসির সাথে। জামালপুর সদর থানার ওসি বলেন, আমি নতুন এখানে যোগদান করেছি। শীঘ্রই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। এসময় সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ –এর পরিচালক (জেলা ইউনিট প্রধান) রেজাউল করিম রেজা, সহকারী পরিচালক (আইন) দৈনিক আমার বার্তা পত্রিকার সচিবালয় বিটের সিনিয়র রিপোর্টার মোহাম্মদ আলী আবির, সেলের ময়মনসিংহ জেলা শাখার প্রধান (অনুসন্ধান) মোঃ আব্দুল মান্নান, সহকারী পরিচালক আনিসুর রহমান রুবেল, সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) আবুল কাশেম ও সহকারী পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) সেলিম সরকার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সবশেষে সেলের চেয়ারম্যান খায়রুল আলম রফিক বলেন, এসব নির্যাতিত ও নিহত সাংবাদিকদের বিষয়ে যদি দ্রুত বিচার না করা হয়, আসামিদের আইনের আওতায় না আনা হয় তাহলে বৃহত্তর কর্মসূচি পালন করা হবে, ইনশাআল্লাহ।

সংবাদ টি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved
Design BY Raytahost